“বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের উদ্দেশ্যে রুশ ট্যাংকার বন্দর ছেড়েছে। হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাকের সতর্কবার্তা।”,
বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে প্রথম ট্যাংকার ছাড়লো রাশিয়া
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন গতির সঞ্চার করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রথম ট্যাংকার বন্দর ছেড়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তেল বিক্রির ক্ষেত্রে মস্কোর সামনে কোনো ধরনের বাধা বা সংকট নেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য বিক্রি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। আর্কটিক অঞ্চলের কারা সাগরের উপকূলে অবস্থিত ডিকসন বন্দর থেকে এই প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বেশ বড় ধরনের টানাপোড়েন চলছে। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের ঘাটতি রয়েছে। এই বিশাল পরিমাণের ঘাটতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারদর এখনো বেশ চড়া অবস্থায় রয়েছে। বাজার পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করা হলেও জ্বালানির মূল্য সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালির সংকটে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল নৌপথ হলো হরমুজ প্রণালি। এই জলপথের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী। তার স্পষ্ট সতর্কতা, হরমুজ প্রণালির অবস্থার দ্রুত উন্নতি না ঘটলে অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা গেলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাজারে ভারসাম্য ফিরে আসা সম্ভব। তবে বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশগুলোর কৌশলগত মজুত যেভাবে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া কূটনৈতিক সমীকরণ ও জেলেনস্কির উদ্বেগ
সম্প্রতি বৈশ্বিক রাজনীতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কথা প্রকাশ পায়। ক্রেমলিনের মতে, বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সরবরাহ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তার আশঙ্কা, রুশ ডিজেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে সেই অর্থ সরাসরি ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে মস্কো।
পাইপলাইন কূটনীতি: চীন ও ইউরোপের সঙ্গে গ্যাস বাণিজ্য
কেবল তেল নয়, পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে রাশিয়া।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া’ পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই সরবরাহের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার চুক্তিও রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় অঞ্চলের বাজারে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন প্রসঙ্গে নোভাক জানান যে, বিস্ফোরণে তিনটি লাইন অচল হলেও একটি অক্ষত রয়েছে।
তবে ইউরোপীয় ক্রেতা দেশগুলোর ইতিবাচক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে।
