জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। সাভার সেনানিবাসে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বললেন প্রধানমন্ত্রী।
সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা
স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি সবসময়ই ছিল সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। দেশের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বিশ্ববাসীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এই সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
সাভার সেনানিবাসে পতাকা প্রদান অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা
রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসের ৯ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকাল সোয়া নয়টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ে সেনাসদরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এরপর সেনাবাহিনীর একটি সুশৃঙ্খল ও চৌকস দল রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী গার্ড অব অনার প্রদান করে। এই সামরিক সম্মান প্রদর্শনের পর তিনি উপস্থিত বীর সেনানিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন সম্পন্ন করেন।
সাতটি ইউনিটের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া
আজকের এই বিশেষ সামরিক আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের হাতে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া। নবম পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত মোট সাতটি ইউনিটকে তাদের অসামান্য কৃতিত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পতাকা প্রদান করা হয়। পতাকা গ্রহণের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই পতাকা কেবল একটি কাপড়ের টুকরো নয়। এটি আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম, বীর শহীদদের রক্তস্নাত আত্মত্যাগ এবং সার্বভৌমত্বের চিরন্তন প্রতীক।
জাতীয় পতাকা সুরক্ষায় সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব
পতাকার মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক সৈনিকের পবিত্র ও সর্বপ্রধান নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সরকারপ্রধান। দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বদা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সৈনিকদের মনে দেশপ্রেমের আগুন প্রজ্বালিত রাখতে এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে এই জাতীয় পতাকা অর্পণ অনুষ্ঠান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শৃঙ্খলা ও আদর্শের আলোয় নিজেদের জীবন গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ
বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে।
প্রযুক্তির বিপ্লবের এই যুগে শুধু গতানুগতিক সামরিক শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর চৌকস বাহিনী হিসেবে রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নিজস্ব নেতৃত্ব, উচ্চ নৈতিকতা এবং সাধারণ মানুষের অর্জিত আস্থার ওপর ভর করেই ভবিষ্যৎ বাহিনী গঠিত হবে।
দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় নিরাপত্তাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও গবেষণামূলক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করার পাশাপাশি যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে।
আজকের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো যা আগামীদিনে দেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
