মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি।
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো রায় দেওয়ায় দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ব্যালটে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই ফলাফল বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ধস নেমেছে।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ক্ষমতার পালাবদল
নির্বাচনের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী মার্কিন আইনসভার উভয় কক্ষেই নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছে ২৩৭টিতে এবং রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৩৯টি আসন। অন্যদিকে একশ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি এবং রিপাবলিকানরা ৪৪টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। ঐতিহাসিক এই ব্যবধানে জয়ী হয়ে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ক্যানসাস ও টেক্সাসের মতো ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
“আমেরিকার সাধারণ মানুষ বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ ও নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।”
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া এবং হোয়াইট হাউসের হিসাব-নিকাশ
প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ব্যালট পেপারে সরাসরি তাঁর নাম না থাকায় রিপাবলিকানদের এই খেসারত দিতে হয়েছে। তবে সব বিতর্ক ও প্রাথমিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের জয়কে স্বীকৃতি দিয়ে অভিবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের ভেটো ক্ষমতা হাতে থাকায় তিনি আইন প্রণয়নের লড়াইয়ে টিকে থাকার দৃঢ়তাও দেখিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রভাব
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিডিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে এই হারের জন্য ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে দায়ী করেছেন। ভোটাররা মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্ষমতাসীন দলের ওপর বিরক্ত ছিলেন। তা ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। এসব কারণে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও আগামীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা
হোয়াইট হাউসের বাইরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ থাকায় বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির শঙ্কা রয়েছে।
মেয়াদের বাকি সময়গুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেকোনো নীতি পাস করাতে হলে বিরোধী দলের মুখোমুখি হতে হবে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে কঠোর তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফলে আগামী দিনে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তীব্র ক্ষমতার লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।
Democrats seize control of US House, Senate in midterm elections
ভিডিওটিতে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
