বাংলাদেশে এখন এমন এক বাস্তবতা, যেখানে সত্য বলা, ন্যায় বলার আগে হিসাব করতে হয় এই বাক্যটি আওয়ামীলীগের পক্ষে গেলো কি না! রবীন্দ্রনাথ, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয় সংগীত এসব নিয়ে কথা বললেও কেউ আপনাকে ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে’ বলার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারে।
আজ কেউ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, নারীর পক্ষে দাঁড়ালেই তার বিপদ। কারণ এসবই নাকি আওয়ামীলীগের পক্ষে ভাবমূর্তিকে জাহির করে! অর্থাৎ যা কিছু মানবিক, প্রগতিশীল, ইতিহাস নির্ভর, সেটাই এখন আওয়ামী লীগময় এবং তা বললেই বিপদ!
এই বিপজ্জনক ইন্টারপ্রিটেশন কালচারই ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়। ফ্যাসিস্টরা ভাবে, তারা যা করে, সবই জনকল্যাণে। তারা খুন করে, জেলে পুরে, কণ্ঠরোধ করে সবই নাকি দেশের ভালোর জন্য। ইতিহাস বলে, নিরো রোম পুড়িয়ে খ্রিস্টান নিধন করেছিলেন। হিটলারের প্রেমিকা আত্মহত্যার আগে তাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন এত কিছু করে শেষমেশ কী পেল?
আমাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কেউ শেখ মুজিবের বাণী আওড়ালেও ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে’ দাঁড়ানোর অভিযোগে জেলে যেতে হতে পারে। অথচ তখন হয়তো রাজাকারদের বাণী উদ্ধৃত করা যাবে অবলীলায়।
আজ যদি কেউ হিন্দু, নারী, সংখ্যালঘু, ইতিহাস, বা কোনো আওয়ামী লীগ নেতার হত্যার প্রতিবাদ করেন তবেই তিনি দোষী। কারণ ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে’ কথা বলা নিষিদ্ধ! এ এক ভয়াবহ সময়। রাজনৈতিক টাউটারির শেষ সীমা পার হয়েছে এ দেশ। গরিবের রক্তে কেনা রাজনীতি ঘুরে ফিরে আজ প্রতারকদের হাতে বন্দী।
দেশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, কিন্তু সেই চেতনাকে প্রচারের অপরাধে মানুষকে বন্দী করা হচ্ছে। এ যেন উল্টো ইতিহাস! বাকস্বাধীনতার নামে রুদ্ধ সময়।
